অনলাইনে বিমানের টিকেট আবার কবে মিলবে, সর্বশেষ খবর

অনলাইনে বিমানের টিকেট আবার কবে মিলবে, সর্বশেষ খবর
পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে নি;জস্ব ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রীয় প;তাকা;বাহী বিমান বাংলাদেশ টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে ভ্রমণকারীরা;

আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইনের যুগে বিশ্বে এমন কোনো এয়ারলাইন্স খুঁজে পাওয়া মুশকিল যেটির অনলাইনে টিকিট বিক্রির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘অকেজো’।বিমান বাংলাদেশ এবং এয়ারলাইন্সটির অলনাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনাকারী ট্রাভেল শপ লিমিটেডের এ নিয়ে দুই ধরনের অবস্থানের মধ্যে এ বছর ১০ অগাস্ট থেকে বিমানের ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটা যাচ্ছে না।

যোগাযোগ করা হলে বিমান বাংলাদেশের উপ মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, “অগাস্ট থেকে বিমানের নিজস্ব অনলাইন টিকেটিং বন্ধ রয়েছে। নতুন ওয়েবসাইটের কাজ চলছে। শিগগিরই সেটা চালু হবে।“
অনলাইন টিকেটিং বন্ধ হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি গত অগাস্টে দেওয়া বিমান বাংলাদেশের ব্যাখ্যার কথা জানান। ওই ব্যাখ্যায় তখন অনলাইন প্লাটফর্মে টিকেট বিক্রির তদারকিতে থাকা কোম্পানিকে দায়ী করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান আগের কোম্পানিকে বাদ দিয়ে অনলাইনে টিকিট বিক্রির নিজেদের প্লাটফর্ম চালু করতে নতুন একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। এ কাজ শেষ হলে আবার বিমানের ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কেনা যাবে।
বিমানের নিজস্ব অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে টিকিট বিক্রি না হলেও এখন বেসরকারি অন্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিমানের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সটির নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র এবং অনুমোদিত এজেন্টদের কাছ থেকেও টিকিট কেনা যাচ্ছে।
তবে তৃতীয় পক্ষ বিক্রি করলে প্রতি টিকিটের বিপরীতে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গুণতে হয় বিমানকে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিদেশগামীরা সরাসরি টিকিট কিনতে না পারায় যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি বিমানের লাভও কমছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, বিশ্বের আর কোনো দেশের কোনো রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ থাকে না।

‘চাহিদার সুযোগে’ মধ্যপ্রাচ্যের টিকেটের দাম দ্বিগুণ, বিপাকে যাত্রীরা
“অথচ আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্যারিয়ার বিমানের টিকিট পাঁচ মাস ধরে কাটতে হচ্ছে থার্ড পার্টির মাধ্যমে। এতে যাত্রীরা যেমন ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, বিমানেরও প্রতি টিকিটে এজেন্ট কমিশন দিতে হচ্ছে।“

তার ভাষ্য, “এটা বিমান কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, কর্মকর্তাদের কর্তব্যে অবহেলা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।“

কর্মকর্তাদের কেউ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য এমনটি করছেন অভি;যোগ করে তিনি বলেন, না হলে- এতদিন বন্ধ থাকে কেন।
“আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিমানকে আধুনিকায়নের জন্য এতগুলো অত্যাধুনিক ফোর্থ জেনারেশন এয়ারক্র্যাফট কেনার ব্যবস্থা করেছেন।

অ্যাপে এখন রেলের টিকিট, বাসের টিকিট কেনা যায়। যেখানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলি সেখানে বিমানের মতো সংস্থার টিকিটিং অ্যাপ বন্ধ থাকবে কেন।“

বন্ধ থাকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি

২০১৯ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশের অনলাইন টিকিট কাটার প্লাটফর্ম পরিচালনা করত বিদেশি একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জ্যাপওয়েজ। সেসময় টিকিট ফেরত দিতে না পারা, ভুল টিকিটিংসহ নানা সমস্যার কারণে ওয়েবসাইট থেকে তেমন টিকিট বিক্রি হত না বলে কর্মকর্তারা জানান।

পরে বিমানের অ্যাপ তৈরি এবং ওয়েবসাইট উন্নয়ন ও দেখভালের দায়িত্ব পায় ট্রাভেল শপ নামের দেশি কোম্পানিটি।

এ বছর ১০ অগাস্ট টিকিট বিক্রি বন্ধের আগে পর্যন্ত এ কোম্পানিই অনলাইনে এ দায়িত্ব পালন করত।

হঠাৎ করে এ কার্যক্রম বন্ধ প্রসঙ্গে বিমান বলছে, তাদের অনলাইন টিকিটিং কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশি প্রযুক্তি কোম্পানি ট্রাভেল শপ বিমানের চাহিদা পূরণে করতে পারেনি। এক পর্যায়ে ‘অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে’ সেবা দেওয়াও বন্ধ করে দেয়।

অপরদিকে ট্রাভেল শপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এএসএম মুক্তাদিরের দাবি, বিমান বাংলাদেশ সার্ভারের বিল না দেওয়ার কারণে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন সার্ভার বন্ধ করে দিয়েছে।

বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিমান বিল পরিশোধ করেনি।এ কারণে তারা এ সেবা চালু রাখতে পারেননি।

ট্রাভেল শপ বিমানের নতুন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম উন্নয়নের কাজ করে। ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিমানের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। রাজস্ব ভাগাভাগির শর্তে টিকিট বিক্রির নতুন প্লাটফর্ম ও অ্যাপ উন্নয়ন ও পরিচালনার কাজ করে কোম্পানিটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে কোম্পানিটির সিওও জানান, আন্তর্জাতিক টিকিটপ্রতি ১ ডলার এবং অভ্যন্তরীণ টিকিটে ৪৫ সেন্ট কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করছিলেন তারা। আর সার্ভারের বিল শোধ করার কথা বিমানের বলে তার দাবি।

এ প্ল্যাটফর্মে জটিলতা দেখা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিমানের ওয়েবসাইটে প্রচুর ডেটা আদানপ্রদান হয়। যে কারণে সার্ভারের বিলও বেশি। এ সার্ভার নেওয়া হলো অ্যামাজন থেকে।

নতুন ওয়েবসাইটে টিকিটিংয়ে ভুলের পরিমাণ ২ শতাংশের নীচে চলে এল দাবি করে সিওও বলেন, যেটুকু ভুল হয়েছে ক্ষতিপূরণও দেওয়া য়েছি। এর মধ্যে কোভিড মহামারী আসার পরই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়, ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেল।

“তারপরও ২০২১ সালের অগাস্ট পর্যন্ত আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিমান ১২৫ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি করেছে। কিন্তু সার্ভারের বিল দিচ্ছিল না। বিমানকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা এ বিষয়ে গা করছিল না। কোভিডের ক্ষতির কারণে আমাদের পক্ষেও এটার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না।“

প্ল্যাটফর্ম বন্ধের ঘটনাক্রমের বর্ণনা দিয়ে তিনি দাবি করেন, সবশেষ ১০ অগাস্ট অ্যামাজন সার্ভার বন্ধের সতর্কবার্তা পাঠালে বিমানকে তা জানানো হয়। বিল দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ব্যাংকে নির্দেশনা দিয়ে পেমেন্ট গেটওয়েগুলো বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিমান। এ কারণে পরে ওই ওয়েবসাইট চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বিমানের কাছে জানতে চাইলে উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার অগাস্টের ব্যাখ্যাটিই আবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের কাছে পাঠান।

১১ অগাস্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়, দেশি সার্ভিস প্রোভাইডারদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে একটি প্রতিষ্ঠানকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের টিকিট বিক্রির দায়িত্ব দেয় বিমান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিত কার্যক্রম সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধাপে বারবার ব্যর্থ হয়।

“সবশেষ ১০ আগস্ট সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে বিমানকে সংশ্লিষ্ট সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে।“

তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বিমান খুব শিগগির বিশ্ব স্বীকৃত সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে উন্নত অনলাইন সেবা নিশ্চিত করবে।

তবে সাড়ে পাঁচ মাস পরও রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সটির উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার আবারও ‘শিগগির’ এ ব্যবস্থা চালুর কথা বললেন।

সূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

About admin

Check Also

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এভিয়েশন অথরিটি আরো ৪টি দেশে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে !

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এভিয়েশন অথরিটি আরো ৪টি দেশে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে ! সংযুক্ত আরব …

Leave a Reply

Your email address will not be published.